আজ ক্ষমা চাইবেন, কাল ফোঁস করে কামড়ে দেবেন’, অনুব্রত মন্ডলকে কটাক্ষ সৌমিত্রর

।। হিমাদ্রি মন্ডল, বীরভূম ।।

আগামী বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সিংহাসন দখলে রাখা অথবা সিংহাসন দখল করার এই লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন শাসক ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতারা। বর্তমান করোনা আবহেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরের নেতাদের একের পর এক কর্মীসভা ও কর্মসূচি গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে। ঠিক একইভাবে করোনা ভয়কে দূরে সরিয়ে বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় কর্মীসভা করে চলেছেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। আর এই সকল কর্মীসভাতে অনুব্রত মণ্ডলকে একেবারে অন্য ভঙ্গিতে দেখা যাচ্ছে চলতি মরশুমে।

অনুব্রত মণ্ডল চলতি মরশুমে বিভিন্ন এলাকায় কর্মীসভা চালানোর সময় হাতজোড় করে কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইছেন। তাকে বলতে দেখা যাচ্ছে, পঞ্চায়েতের কোন প্রধান, মিউনিসিপ্যালিটির কোন চেয়ারম্যান, দলের কোনো নেতা যদি কোনো রকম ভুল করে থাকে, আমি যদি কোন ভুল করে থাকি তাহলে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আর ক্ষমা করে যেন একুশের নির্বাচনে ভোটটা মমতা ব্যানার্জিকে দেওয়া হয়। কারণ হিসাবে তিনি উল্লেখ করেছেন একুশের ভোট প্রধানের ভোট নয়, একুশের ভোট চেয়ারম্যানের ভোট নয়, একুশের ভোট জেলা পরিষদের ভোট নয়। একুশের ভোট হল মমতা ব্যানার্জির ভোট। মমতা ব্যানার্জীকে রাখতে হবে।

আর অনুব্রত মন্ডলের এই হাতজোড় প্রসঙ্গকেই সোমবার কটাক্ষ করলেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ। সৌমিত্র খাঁ সোমবার বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরে তারা মায়ের পুজো দিতে আসেন। তারা মায়ের পুজো দেওয়া ছাড়াও এদিন নলহাটির একটি রক্তদান শিবিরে যোগ দিবেন তিনি। আর এই পুজো এবং কর্মসূচির মাঝে তিনি অনুব্রত মণ্ডলের হাতজোড়কে কটাক্ষ করলেন।

তিনি এদিন কটাক্ষ করে বলেন, “এটা হচ্ছে ছলনা করে আবার মানুষকে বোকা বানানোর একটা চেষ্টা। এরা হুমকি দিয়ে আজকে ক্ষমা চাইবে, কালকে আবার জুতো মারবে। এরা মানুষকে বোকা বানিয়েছে, এরা শিক্ষকদের বোকা বানিয়েছে ১০ বছর ধরে। আর মানুষকে একেবারে সর্বস্বান্ত করেছে, মানুষ এখন বিপদের মুখে আছে। উনি আজ ক্ষমা চাইবেন, আবার কালকে সুযোগ পেলে ফোঁস করে কামড়ে দেবেন। এটাই তো উনার কাজ।”

এম/বি